খোঁজ করুন

nafiurrashid

আমাদের হাসি গান কথা ও কাজে, মুখরিত হবে ধরা নতুন সাজে ।

রূপকথা কিংবা আমি

আমার ছোটবেলাটা কেটেছে মন্ত্রমুগ্ধের মত রূপকথার গল্প শুনে।
চোখ বুজলেই সেসব রাজা রানী পঙ্খীরাজের ঘোড়া!

আর সেই গল্প বলার ছলে ভাত খাওয়ানো ! আমার আগ্রহে কখনই কমতি পড়ে না।কখনওআম্মু কখনও বোনের কাছে আব্দার,’একটা গল্প বলো না প্লিইইজ’

বাবার গল্পগুলা ইকটু অন্যরকম হোতো।

সে গল্পে রাজা রাজপ্রাসাদের বদলে রাস্তা বাজার মাছওয়ালা-এদের গল্প থাকতো ।

যে দিন আব্বুর হাত ধরে প্রথম ঘর থেকে বেরোলাম সে দিন হয়তো আমার অবস্থা পথের পাঁচালীর অপুর মত ‘বালক বর্ণ পরিচয়ে ‘খ’ এ খরগোশের ছবি দেখিয়াছে কিন্তু তাহা জীবন্ত অবস্থায় এমন লাফাইয়া পালায় বা তাহা আবার সাধারন চক্ষুতে দেখিতে পাওয়া যায় একথা সে ভাবে নাই’।

আসলেই তো,বাবার গল্পের চরিত্র এভাবে চোখের সামনে চলছে,ছুটছে,হাটছে!
কী আশ্চর্য !
beautiful-tree-house-fantasy-fairy-tale-images-pictures-hd-photos এভাবে জীবনের গল্পের ট্রেনটা স্কুল কলেজ ভেদ করে ছুটতে থাকে।
সেই একই ছন্দ-পুউউ ঝিকঝিক ঝিকঝিক ।বিষ্ময়ে ভরপুর আরো বহু স্টেশন পাড়ি দিতে হবে।

আমার এই গল্পটা না ঈশপের না বিভূতিভূষণের।

এজন্যই ভীষন আনপ্রেডিক্টেবল!স্রষ্টার লিখনীর একবর্ণও কি অনুমানযোগ্য?

সেজন্যই গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করি সেই সব আশ্চর্য স্টেশনের।এই অপেক্ষার সাথে বাড়ে জীবনকে ঘিরে আবেগ!

এজন্যই বোধহয় বেঁচে থাকার অনুভূতি এত গাঢ় !এত ভালোলাগার!

Featured post

মিথ্যে আবেগ

মিথ্যা আমি বলিনি কখনো-সত্যিই আবেগ ছিলো,
সেই আবেগের ফুল শুঁকোতে একুশ বছর নিলো ।
তোমার গায়ে আজকে ফুটাই সত্য কথার হুল ,
একটা কথাই মিথ্যা ছিলো একটা কথাই ভুল,
এই মিথ্যে সত্য হলেই হয়তো তুমিই জিততে ,
তোমায় ছাড়া বাঁচব না আর-এইটা ছিলো মিথ্যে ।

“দিপান্বিতা,১৪২ বার আজকের দিনটা ভেবেছি তাও দেখো আমার পা কাঁপছে”
দিপান্বিতা ভেবাচেকা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।পাতার ফাঁক দিয়ে ওর গালে আলো চুইয়ে পড়ছে ।আমি মুগ্ধ চোখে আবার তাকালাম ওর দিকে ।আমি ধবধবে একটা সাদা পান্জাবী পড়ে আছি ।আমি পেছন থেকে হাতটা সামনে এনে সাদা গোলাপটা বের করলাম।
“সত্যিকারের ভালোবাসার দৃষ্টি পৃথিবীর সব রং বদলে দিতে পারে” ,আমি বলতে থাকলাম ।
এরপর বারবার প্রাকটিস করা ঘটনাটা ঘটল ।আমার ডানচোখ বেয়ে টপটপ করে পানি ঝরতে লাগলো।দিপান্বিতার দৃষ্টি আমার চোখের দিকে ।এই কয়েকটা মুহূর্ত দরকার ছিলো ।আমি আস্তিনে লুকানো লাল গোলাপটা দিয়ে সাদা গোলাপটা বদলে দিলাম ।দিপান্বিতার দৃষ্টি আবার গোলাপের দিকে।ভীষণ চমকে মন্ত্রমুগ্ধের মত তাকিয়ে আছে ।
“তুমি সারাজীবন এই ভালোবাসা নিয়ে তাকাবে দিপান্বিতা ?”

দিপন্বিতার কাজল দেয়া চোখ টইটুম্বুর ।দেখে মনে হচ্ছে কাজল দীঘি ।আস্তে উপরে নিচে মাথা নাড়ল দিপন্বিতা।আমার বুকে আসম্ভব সুখের বেদনা ।

হঠাৎ আমার চোখে সূর্যের আলো।আলো বাড়তেই থাকলো ।আনেক কষ্টে চোখ খুললাম ।সকাল হয়ে গেছে ।

“১৪৩”,আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে বললাম।

Blog at WordPress.com.

Up ↑

%d bloggers like this: